সন্ধ্যেবেলায় তাঁর সাথে বসে আছি। চা, মুড়ি খেতে খেতে কথা হতে শুরু হলো। তিনি বললেন - দেখো, এই যে আমার সাথে তুমি উঠছো, বসছো, চলছো, এতে কিন্তু আমাদের মন ধীরে ধীরে এইগুলিকে ছবি বানিয়ে ফেলবে, তখন তুমি মেশিনের মতন হয়ে যাবে। এগুলির পেছনে থাকা যে সজীবতা, তা নষ্ট হয়ে যাবে। তখন একঘেয়েমি বলে জীবনকে বোধ হয়। তাই একটা নির্দিষ্ট দূরত্ব বজায় রেখে আমাদের দৈনন্দিন জীবন চালনা করতে হবে। তাতে জীবনের সকল ওঠা-বসাগুলি বড় সরল থাকবে। সর্বোপরি, তাদের মধ্যে প্রাণবন্ততা থাকবে।
বৈবাহিক জীবন, প্রেমিক - প্রেমিকার জীবন boring হয় এই একটিই কারণে। দুজনে একে অপরের সবটুকু জানে - কী শরীর , কী মনের ভাব! আবার দূরত্ব তোমাকে individual ভাবে নতুনভাবে গড়ে তুলবে, যেটা খুবই প্রয়োজন। নাহলে তুমি চিরকাল পরনির্ভর হয়ে থাকবে। আমার থেকে যা কিছু শুনছো, তার গভীর মননে গিয়ে তোমায় নিজেকে গড়তে হবে। এখানে আমি বা কোন শাস্ত্র কিছু করতে পারে না। সজীব থাকাই একমাত্র উপায়।
লোকে, distance maintain করাকে একটা নিয়ম মনে করে। কিন্তু এর গভীরে কারণটা দেখে না। আমাদের বুঝতে হবে, কেন বলা হয়," সম্পর্কে দূরত্ব রাখো।"
আসল কারণ হল, যে কোন বিষয়ের ছবি নির্মাণ করা মনের স্বভাব। ওটা ওর কাজ করার ধরণ। তাই, যেহেতু আমাদের মন এমন, তাই দূরত্ব বা space এই জন্য রাখতে হয় যাতে সামনে জীবন্ত চেতনা থাকতেও আমরা যদি তার ছবিটাই নিয়ে চলি, তবে বড় লোকসান হয়ে গেল। সম্পর্ক টাটকা ফুলের মতো। কিন্তু আমারই মনের কারণে আমি ফুলের একটা ছবি হাতে নিয়ে চলছি। আমি সুগন্ধ থেকে বঞ্চিত থেকে গেলাম। কিন্তু যদি নিয়ম করে যান্ত্রিকভাবে, দুটো ঘর আলাদা করে ফেললাম বা মাসে 2 বার দেখা করলাম, তাতে লাভ হবে না, যেটা কিনা সবাই করে। কারণ, মনে ছবি তো রয়েছেই। "তিনি এমন, উনি তেমন মানুষ"। এই ছবিটা মানুষের প্রকৃতি বোঝার জন্য, চেনার জন্য কিছুটা প্রয়োজন কিন্তু এর বেশিরভাগ আমাদের কল্পনা ও তুলনায় নির্মাণ করা, যেটা জীবনের ভার বাড়িয়ে তোলে।
কিছু ধারণা হল?
আমি – হুম।