বৃত্তিজয় কি সম্ভব ?
স্থান - অদ্বৈত জ্ঞান পীঠ আশ্রম, দিয়াড়া
অদ্বৈত জ্ঞানপীঠে মহারাজের ঘর।সন্ধ্যাবেলা।মহারাজ তাঁর নির্দিষ্ট চেয়ারে বসে আছেন। আর আমরা কয়েকজন শিষ্য তাঁর চারপাশে - কেউ মেঝেতে, কেউ চৌকিতে। ঘরের কোনায় রাখা ধূপের মিষ্টি গন্ধে ঘর ভরে গেছে।
শিষ্য :- মহারাজ, আমরা তো মন দিয়েই চিন্তা করি?
মহারাজ :- মন দিয়ে চিন্তা করছি না; চিন্তাগুলোই মন।আর আছে কি? ঘুমিয়ে ঘুমিয়ে তোমার কোন্ মন থাকে?
শিষ্য :- যাঃ! এতো শুরুতেই ব্যাপারটা শেষ করে দিলেন। কিন্তু, মনে তো বিভিন্ন বৃত্তি ফিরে ফিরে আসে। সেক্ষেত্রে সঠিক চিন্তা করেই কি বৃত্তিকে হারাতে হয় না?
মহারাজ :- খুব ভালো করে জেনে নাও, তোমার বৃত্তিকে কোন চিন্তা মারতে পারে না।মন যাকে তুমি বলছো, দেখবে বেশিরভাগ মানুষের মন এলোমেলো চিন্তা করে। এমনকি, constructive সাংসারিক চিন্তাও বড় কম আছে। বৃত্তি মানে হল খুব গভীর দেহগত সংস্কার। ধরে নাও, এই বৃত্তিরই জন্ম হয়েছে। এবং এগুলো কখনো যাওয়ার নয়।বৃত্তি থাকবেই। তাই আমি বলি, সঠিক চিন্তা নয়, সঠিক কর্ম করতে।
বৃত্তিকে চিন্তা জয় করতে পারে না। বৃত্তিকে সঠিক কর্ম/ কর্তাই জয় করতে পারে। আর এরজন্য দরকার সঠিক শিক্ষা, সঠিক সঙ্গ।
শিষ্য :- তাহলে বৃত্তিগুলোকে control করার উপায় কি?
মহারাজ :- দেখ, প্রথমে আসে অহংবৃত্তি; তারপর চিন্তা; তারপর কর্ম। এই অহংবৃত্তির সাথে co- related আছে কাম, ক্রোধ, লোভ এইসব। এবার দেখো, এই কাম, ক্রোধ, লোভ কিন্তু content less নয়। কারণ, কামনা করলে তুমি কোন বস্তুরই কামনা করো। তাই এই অহংকে সঠিক মাপদন্ড দিতে হয়। এখানেই আসে শিক্ষার বা অধ্যাত্মের প্রশ্ন।
বৃত্তি তো ফিরে ফিরে আসবেই। কিন্তু, সঠিকভাবে জীবন কাটালে দেখবে যে, সেগুলি আসছে বটে কিন্তু আর দাগ কাটতে পারছে না।
তাই সঠিক কর্ম করা শুরু করে দাও। যতটা বুঝেছো, সেখান থেকেই শুরু করো। ঠাকুরের কথা ভুলে গেলে যত পূর্বদিকে তুমি এগোবে, পশ্চিমদিক ততই পিছনে পড়ে থাকবে।